উচ্চমাধ্যমিকের পরে কি?

Unique Info Bangla

উচ্চমাধ্যমিকের পর কী নিয়ে পড়লে সহজেই চাকরি পাবো ?

উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরেই অনেকে ভাবো , কী নিয়ে পড়লে বা কী কোর্স করলে, অল্প সময়ের মধ্যে চাকরি পাওয়া যায়। আবার অনেকেই ভাবো উচ্চ মাধ্যমিকের পর কী কোর্স করলে সহজেই ভবিষ্যৎ জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় ? আজকের প্রতিবেদনে, আমি এমন কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যা উচ্চমাধ্যমিকের পর জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করবে।  এবং তুমি যদি এই বিষয়গুলি অধ্যয়ন কর তবে ভবিষ্যতে কাজের সুযোগ কেমন হবে ।

 

1. যদি ইংরেজি নিয়ে পড়ো :

উচ্চমাধ্যমিকের পর অনেকেই অনার্স কোর্সে এই বিষয়টিকে বেছে নাও । কিন্তু তার আগে তোমাদের জেনে রাখতে হবে যে উচ্চমাধ্যামিক লেভেল এ যে সব টপিক এ পড়াশোনা করেছো তার ছেয়ে কিন্তু অনার্স লেভেল এ অনেকটাই পার্থক্য রয়েছে । তাই ‘ইংরেজি নিয়ে অনার্স করছি’ বলার জন্য ইংরেজি নিয়ে না পড়ে ভাষা ও সাহিত্যের মধ্যে গভীর ভাবে ঢুকে ভালোভাবে পড়তে পারবো কি না, সেটা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

চাকরির ধরনঃ

ইংরেজির স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ছেলেমেয়েদের কাজের প্রচুর সুযোগ । ব্যাঙ্ক,  বিমা থেকে শুরু করে সাংবাদিকতা, সংবাদপাঠ, সম্পাদনা, এছাড়া বিভিন্ন প্রায়ভেট কোম্পানি তেও কাজ পাওয়া যাই । সব ক্ষেত্রেই , ইংরেজির অপরিহার্য অসিম ।  তাই বিভিন্না কর্পোরেট কমিউনিকেশন, বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থায় ইংরেজির প্রয়োগ শিক্ষণ, বাণিজ্যিক সংস্থায় কনটেন্ট রাইটিং এবং বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক বিশ্লেষণ, স্ক্রিপ্ট লিখন, বিজ্ঞাপন জগৎ, বিপিও, গ্রাফিক ডিজাইন, ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রচুর কাজের সুযোগ রয়েছে ।

 2. যদি নিউট্রিশন নিয়ে পড়ো :

জাতীয়-বহুজাতিক সংস্থা, খাদ্য ও পানীয় শিল্প, ফিটনেস সেন্টার, বড় রেস্তোঁরা, ক্যাটারিং সংস্থাগুলি এবং আরও অনেক কিছুতে কাজ রয়েছে ,বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিত্সা গবেষক, খাদ্য বিজ্ঞান গবেষক ইত্যাদির মতো বিভাগগুলিতে প্রচুর কাজের সুযোগ রয়েছে, পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে চাকরির বাজারে বিভিন্ন পেশায় বিশাল বেতন আদায় করাও সম্ভব।

3. যদি আইন নিয়ে পড়ো :

 রাজ্যে অনেক বিশ্ব বিদ্যালয় যেমন বর্ধমান,বিদ্যাসাগর,ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়  কলকাতা এবং কল্যাণী অধীনস্থ অনেক কলেজে স্নাতক স্তরে আইন পড়ানো হয়। এই রাজ্যে তথা গোটা দেশেই দুই ভাবে আইন পড়া যায়। এক পাঁচ বছরের জন্য যা উচ্চ মাধ্যমিকের পর করা যায় । আর আরেকটি হল তিন বছরের জন্য যা গ্র্যাজুয়েশনের পর  করা যায় । বর্তমানে ভারতে  পাশ করা ও দক্ষ উকিলের  চাহিদা অনেক বেশি। এছাড়াও  বিভিন্ন বড়ো ল ফার্মের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখতে পারলেও কাজের অভাব হবে না। এছাড়াও আইন নিয়ে পড়াশোনা করার পর যেমন সাইড ইনকাম করা যায় তেমনি জুডিসিয়াল সার্ভিসের পরীক্ষা দিয়ে বিচারকও হওয়া যায়।

4. যদি  জার্নালিজম ও মাস- কমিউনিকেশন নিয়ে পড়ো  :

সাংবাদিকতায় যদি আগ্রহ থাকে, তাহলে এই অপশনটি তোমার জন্য। বর্তমানে ডিজিট্যাল যুগে যেখানে  নানা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন খবরের  চ্যানেল সেখানে মিডিয়া ও মাস কমিউনিকেশন বিষয়ে কোর্স করে থাকলে কাজের সুযোগ অনেকখানি।  ফিল্ম স্টাডিজ, ক্লায়েন্ট সার্ভিসিং, রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন প্রোডাকশন, অ্যাড ফিল্ম মেকিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে এই জার্নালিজম ও মাস-কমিউনিকেশনের ওপর কোর্স করা থাকলে তা খুবই কার্যকরী।
এই বিষয়ের ডিগ্রি কোর্স এবং ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স- দুটিই হয়ে থাকে। ডিগ্রি কোর্সের ক্ষেত্রে ব্যাচেলর ডিগ্রি পাওয়ার জন্য সময় লাগবে ৩ বছর। আর ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্সের জন্য সময় লাগতে পারে এক থেকে দুই বছর।

5. যদি নার্সিং ও প্যারামেডিকেল নিয়ে পড়ো :

উচ্চ মাধ্যামিকের পর বিশেষ করে মেয়েরা বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছো এবং মেডিক্যাল এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ভালো রাঙ্ক পাও নি বা মেডিক্যাল এন্ট্রান্স দাও নি তাদের জন্য নার্সিং নিয়ে পড়ে বেস ভালো একটা ক্যারিয়ার গড়তে পারো । ভারতে চিকিৎসা পরিষেবা যেভাবে প্রতিদিন বাড়ছে, তাতে হাসপাতালের সংখ্যা সরকারি ও বেসরকারি স্তরে বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে । আর তাই উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর নার্সিং পাঠ্যক্রমে নিজের ভবিষ্যৎ কেরিয়ার করতে আগ্রহী হলে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে চাকরির অভাব হবে না।
এছাড়া উচ্চ মাধ্যামিকের পর বিশেষ করে ছেলেরা বিভিন্ন প্যারা মেডিক্যাল কোর্স  করলেও তাদের কাজের সুযোগ অনেক।  Dialysis Technician, Cath-Lab Technician, Operation Theatre Technology বিষয়ে কোর্স করলেও নানা সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে কাজের সুযোগ প্রচুর রয়েছে ।

ডায়ালেসিস টেকনিশিয়ানঃ

এই কোর্সে ডায়ালিসিস মেশিন কিভাবে অপারেট করা যায়, তা শেখানো হয়৷ ভারতে কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান৷ ফলে ডায়ালিসিস মেশিন সামলানোর জন্য দক্ষ কর্মীর চাহিদা বিপুল৷

হোম হেলথ এইডঃ

বার্ধক্যজনিতকারণে যাঁরা অসুস্থ, অথবা পঙ্গু-বিকলাঙ্গ ব্যক্তি, যারা নিজের কাজ নিজেরা করতে পারেন না, তাদের খেয়াল রাখার জন্য দরকার বিশেষ অ্যাটেনডেন্ট৷ এই বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য পাঁচ মাস থেকে এক বছরের ট্রেনিং শেষে অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে যোগ দিতে পারেন৷

এক্স-রে টেকনিশিয়ানঃ

৮ মাসের এই কোর্সে এক্স-রে -এর আধুনিক যন্ত্রপাতির যত্ন ও সেফটি রেগুলশন সহ পরিচালনার সমস্ত খুঁটিনাটি শেখানো হয়৷ বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে এক্স-রে টেকনিশিয়ানের চাহিদা বিপুল৷

ডেন্টাল অ্যাসিটেন্টঃ

দাঁতের সমস্যা মেটাতে আজকাল ডেন্টিস্টরা আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্য নেন৷ এই যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য দরকার দক্ষ ডেন্টাল অ্যাসিসটেন্ট৷ মাত্র ৬ মাসের কোর্স শেষে এই পেশায় যোগ দিতেই পারেন৷

কোর্স ফিঃ

কোর্সগুলির জন্য নূন্যতম ৮০০০ টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে৷

এই কোর্সগুলির পর একজন যোগ্য প্রার্থী নূন্যতম ১০-১৫ হাজার টাকার চাকরি খুব সহজেই পেয়ে যাবেন৷ পাঁচ-ছয় বছরের অভিজ্ঞতার পর মাসে ৫০-৬০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া কোনও ব্যাপারই নয়৷

6. হসপিটাল ম্যানেজমেন্টের ব্যাচেলর ডিগ্রির কোর্স

এটি যে কোনও স্ট্রিমের থেকে ১০+২ পাশ করলে পড়তে পারবে। কোর্সটিতে তিন বছরের সেমেস্টার ভিত্তিক পরীক্ষা হয়। বিষয়গুলি হল বেসিক কনসেপ্ট অব হেলথ, হেলথকেয়ার সার্ভিস, হসপিটাল বেসড হেলথকেয়ার, হেলথ এডুকেশন, কমিউনিকেশন, বেসিক ইনফরমেশন টেকনোলজি, প্রিন্সিপাল অব ম্যানেজমেন্ট, অরগানাইজেশনাল বিহেবিয়ার, কোয়ানটিভি ম্যানেজমেন্ট, ফার্মেসি ম্যানেজমেন্ট, ইনভেনটরি ম্যানেজমেন্ট, বিলিং এবং রিকভারি ইত্যাদি। কোর্স চলাকালীন ছয় মাসের ইন্টার্নশিপ নিতে হয় ফাইভস্টার ক্যাটেগরির হসপিটালে। কোর্সের শেষে চাকরির সুযোগ রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি মাল্টিস্পেশালিটি, সুপারস্পেশালিটি হসপিটালে ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন পদে। শুরুতে চাকরি হয় টেরিটোরি ম্যানেজার, মার্কেটিং অ্যাসোসিয়েট, জেনারেল ম্যানেজার, ইভেন্ট ম্য়ানেজার পদে।

Responses